1. rana.bdpress@gmail.com : admin :
  2. admin@dailychandpurjamin.com : mazharul islam : mazharul islam
  3. rmctvnews@gmail.com : adminbd :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিজানুর রহমান আকন্দ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অমর ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরী ও পুষ্পস্তবক অর্পন বাকেরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন বাকেরগঞ্জের কৃতি সন্তান বশির আহমেদ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরা হলোনা কলেজ শিক্ষার্থী লাকির বান্দরবান জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ইয়াংছা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থসহ ত্রাণ সামগ্রী ভিতরণ লামার ইয়াংছা বাজারে ভয়াবহ আগুন, কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি শ্রীপুরে, মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রেফতার ভুল তথ্য প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়ে লামায় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল হোসাইন চৌধুরী’র সংবাদ সম্মেলন কুড়িগ্রামে মাদক বিরোধী জনসচেতনতা সভা ও প্রীতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

আজ বাউল উকিল মুন্সীর জন্মবার্ষিকী

সাধক ও গীতিকবি উকিল মুন্সী নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার নূরপুর বোয়ালী গ্রামে ১৮৮৫ সালের আজকের এই দিনে তথা ১১ জুন জন্মগ্রহণ করেন। একদিকে মসজিদের ইমাম, অন্যদিকে একতারা হাতে গণমানুষের প্রিয় গীতিকবি- এক অপূর্ব বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে তার জীবনাচরণ ও গানে। তার গুরু ছিলেন আরেক বাউল সাধক রশিদ উদ্দিন।
উকিল মুন্সীর পারিবারিক নাম আব্দুল হক আকন্দ। দশ বছর বয়সে বাবাকে হারান। আব্দুল মজিদ নামে তার এক ছোট ভাই ছিল। গৃহশিক্ষকের কাছে শৈশবেই বাংলার পাশাপাশি আরবি, ফারসি ও কুরআন শিক্ষা নেন। বাবার মৃত্যুর পর হাসনপুরে মা উকিলেন্নেসার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। হাসনপুরে কয়েক বছর থাকার পর দুই ভাই বাবার বাড়ি ফিরে আসেন। তারপর কিশোরগঞ্জের ইটনার ঠাকুরবাড়িতে ফুফুর কাছে থাকেন কিছুদিন।
সে সময়ে নেত্রকোণায় ঘাঁটুগানের ব্যাপক প্রচলন ছিল। তিনি ১৭-১৮ বছর বয়সে ঘাঁটুগানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর মাধ্যমে তার সংগীত জগতে প্রবেশ। বিশ শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি থেকে গায়ক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠতে থাকেন।
তরুণ বয়সে বেড়াতে আসেন মোহনগঞ্জ থানার জালালপুর গ্রামে চাচা কাজী আলিম উদ্দিনের বাড়িতে। এ গ্রামের সাধারণ কৃষক লবু হোসেনের মেয়ে ‘লাবুশের মা’র (হামিদা খাতুন) প্রেমে পড়েন। তাকে নিয়ে লিখেন- ‘ধনু নদীর পশ্চিম পাড়ে, সোনার জালালপুর। সেখানেতে বসত করে, উকিলের মনচোর।’ প্রেমের কথা জানাজানি হলে আভিজাত্যের প্রশ্ন তুলে কাজী বাড়ির লোকেরা বাধা দেয়। ফলে জালালপুরে থাকা বা যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।
হতাশায় কিছুদিন জালালপুরের আশপাশে শ্যামপুর, গাগলাজুর, জৈনপুর গ্রামে পাগলের মতো ঘোরাঘুরি করেন। ১৯১৫ সালে জালালপুর থেকে কয়েক মাইল দূরে মোহনগঞ্জের বরান্তর গ্রামের মসজিদে ইমামতি ও আরবি পড়ানোর কাজে যোগ দেন। ইমামতির পাশাপাশি সারারাত স্বরচিত গজল গেয়ে সময় কাটান। ১৯১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে লাবুশের মায়ের ইচ্ছায় গোপনে তাদের বিয়ে হয়। লবু হোসেন একটি বসতবাড়িসহ তিন একর জমি দান করেন। তখন থেকেই জালালপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ইতোমধ্যে তার গানের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার সুখ্যাতি ছিল। কেউ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মীয়রা জানাজার ইমামতির জন্য তাকে ডাকতেন। এমনও হয়েছে যে, গানের আসরে বিরতি দিয়ে জানাজার নামাজে ইমামতি করতে হয়েছে। এক সময় মানুষ গান শুনে স্বপ্ন দেখেছে যৌবনের প্রেম ভালবাসার। বৃদ্ধকালে আল্লাহ প্রেমের গানে দুচোখের পানিতে ভিজেছে পাকা দীর্ঘ লম্বা দাঁড়ি। নামাজে, জানাজায় প্রার্থনায় তিনি নয়নের জলে বুক ভাসিয়েছেন। মানুষও কেঁদেছে অঝোর ধারায়।
১৯১৮ সালের ১৭ এপ্রিল প্রথম সন্তান প্রখ্যাত গায়ক আব্দুস সাত্তারের জন্ম হয়। এরপর তিনি মদন থানার কুলিয়াটি গ্রামে চলে যান। কুলিয়াটিতে পাঁচ বছর কাটান। গ্রামটি উকিলকে ঘিরে গীতিকবি-গায়কদের মিলনকেন্দ্র বা ঠিকানা হয়ে ওঠে। এ সময় হবিগঞ্জের প্রখ্যাত পীর সৈয়দ মোজাফফর আলী (র.)-এর শিষ্যত্ব নেন ও তারপর থেকেই একতারা বাজিয়ে গান করতে শুরু করেন। মধ্য বয়সে যখন স্রষ্টার প্রেমে মগ্ন হয়ে জীবনের সেরা গানগুলি রচনা করেন সেই সময় তিনি হবিগঞ্জের শরিয়তের পীর মোজফফর আহম্মদ সাহেবের শিষ্যত্ব গ্রহণ করার মাধ্যমে। পীর সাহেবের আশীর্বাদ ও নিদের্শনায় হয়ে উঠেন বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত সম্পদ। মানুষ তাকে মসজিদে ইমাম বানিয়ে নিজেদের তার মাধ্যমে মহান প্রভূর বন্দেগী করার তৃপ্তি পেতেন।
একপর্যায়ে জালালপুর ছেড়ে পাশের জৈনপুরে বেতাই নদীর কূল ঘেঁষে বাড়ি করেন। সাত্তারের পর উকিলের আরও এক ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম। উকিলের অপর ছেলের নাম পুলিশ মিয়া এবং মেয়েদের নাম আয়েশা খাতুন ও রাবিয়া খাতুন। ষাটের দশকের প্রথমদিকে এসে আসরে গান করা ছেড়ে দেন। সে সময়ে এন্ট্রাস পাস স্কুলশিক্ষক ছেলে আবদুস সাত্তার গায়ক ও কবি হিসেবে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন। তিনি চল্লিশের দশকের শুরু থেকে বাবার সঙ্গে বহু আসরে গান করেন। তিনিও সৈয়দ মোজাফফর আলী (রা.)-এর মুরিদ হন।
উকিল মুন্সী হাজারেরও অধিক গান লিখেছেন। বর্তমানে বেশিরভাগ গানের সন্ধান পাওয়া যায় না। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি, বন্ধু আমার নিঃদুনিয়ার ধন রে, আমি আগে না জানিয়া সখিরে কইরে পিরীতি, আত্ম সুখে সুখী যারা প্রেম রতন কি চিনে না, মনের দুঃখ মনে রইল রে, রজনী প্রভাত হলো ডাকে কোকিলা এবং পিরীত ও মধুর পিরীত। তার দুই শতাধিক গান নিয়ে একটি সঙ্কলন সম্পাদনা করেছেন কবি মাহবুব কবির। এ ছাড়া তাকে নিয়ে ওয়াহিদ সুজনের লেখালেখি প্রকাশ হয়েছে ‌’উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ নামে।
জগৎ, সংসার আর জীবনের মিশ্র গান লিখে এবং নিজের সুরে নিজের কন্ঠে গান গেয়ে মানুষের মনে ঠাঁই করে নেন উকিল মুন্সি, আজো যা অমলিন। প্রেমের গান, বিরহের গান; যে গানে মানুষের মনে যৌবনের ইহজাগতিক কামনা-বাসনা প্রতিফলিত হয়।
অল্প সময়ে বিশাল জলরাশির হাওরাঞ্চলে তার সুর, বাণী ও গায়কী মানুষের মন কেড়ে নেয়। তার গায়কী মানুষকে ব্যাকুল করে তোলে। তিনি হয়ে উঠেন বিখ্যাত বাউল গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক।
যৌবনকালে একতারা আর চটিয়া বাজিয়ে গান গেয়ে মাতিয়েছেন যুবক সমাজকে। গানের শব্দ চয়ন, অপূর্ব উপমা হাওরের মাটির স্রোতধারা, ভালবাসা, প্রেম, বিরহের স্বাক্ষর রেখেছেন। খ্যতি অর্জন করা সেই বাদ্যযন্ত্র আর ঝংকার বন্ধ হল এক সময়। তিনি শেষ বয়সের হদয়পর্শী আবেগমাখা বিরহ বিচ্ছেদের গানে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার না করে খালি ভরাট গলায় গান ‘ঘরের মালিকরে দুয়ারে ভিখারী খাড়া তারে বিদায় কর’ ‘আমি কই যাই এই সন্ধাকালে’ ইত্যাদি।
১৯৭৮ সালের মাঝামাঝিতে উকিল মুন্সীর স্ত্রী হামিদা খাতুন এবং এর কয়েক মাস পর ৬ আগস্ট ছেলে সাত্তার মৃত্যুবরণ করেন। সে বছরই অসুস্থ অবস্থায় উকিল মুন্সী ১২ ডিসেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন। নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের জৈনপুরে বেতাই নদীর পারে চিরনিদ্রায় শায়িত হন উকিল মুন্সি।
“ভাগ্য যাহার ভালো নাইওর যাইবে আষাঢ় মাসে উকিলেরই হইবে নাইওর কার্তিক মাসের শেষে রে…” গানের কথামতো কার্তিক মাসের শেষে মোহনগঞ্জের জৈনপুর গ্রামে ৯৩ বছর বয়সে এই মহান মানুষটি সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 rmcnewsbd
Theme Developed BY Desig Host BD