1. rana.bdpress@gmail.com : admin :
  2. admin@dailychandpurjamin.com : mazharul islam : mazharul islam
  3. rmctvnews@gmail.com : adminbd :
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

একজন আদর্শ ও নন্দিত শিক্ষকের কখনও মৃত্যু হয় না

“কেউ বা মরে কথা বলে।আবার কেউ বা মরে কথা বলে না।”
প্রয়াত শ্রদ্ধেয় গিয়াস উদ্দিন আহমেদ স্যার মরেও কথা বলেন।এ কথা আমরা সবাই স্বীকার করি।কারণ তিনি তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে এই দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর “সোনার তরী” কবিতায় দেখিয়েছে মহাকাল মানুষের মহৎ কর্মকে গ্রহণ করে মানুষকে নয়।স্যার কর্মের দ্বারা আজও আমাদের হৃদয়পটে বেঁচে আছেন, থাকবেন অনন্তকাল। আমরা জানি জন্ম মৃত্যুর রহস্যের জট আজোও খুলেনি। ধূলাময়, মায়াময় এই পৃথিবীতে অগণিত আদম সন্তানের জন্ম মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা চিরন্তন। জীবননাট্যের মঞ্চে এই যে রঙ্গলীলা অব্যাহত ধারায় চলছে, তার গুঢ় খবর কেউ জানেনা। মৃত্যুই এর চিরন্তন সত্য। জন্মের সঙ্গেই মৃত্যু চির সাথী হয়ে আছে। ইংরেজিতে একটি কথা আছে Man is Mortal আর বিশ্ব মানবতার মুক্তির মহাসনদ মহাগ্রন্থ আল কোরআনে বলা হয়েছে-কুল্লু নাফছিন যাহিকাতুল মউত। অর্থাৎ প্রত্যেক জীবকে মৃত্যুর শরাব পান করতেই হবে।তবে কোন কোন মুত্যৃ আমাদের অন্তরে দাগ কাটে, আমাদের কাঁদায়, আমাদের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়, আমরা কিছু সময়ের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে যাই বা শোকে অধিক কাতর হয়ে যাই। এমনই একটি মৃত্যু ঘটেছিল ২০১৫ সালের ১২ মে । মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগরের (ছেচড়াখালী বাজার) ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ” শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ” সাবেক ও প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক এই স্কুলের উন্নয়নের রূপকার, হাটনাইয়া তথা মোহনগঞ্জের কৃতিসন্তান, আমার পিতৃ সমতুল্য মহান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ স্যার। তিনি দুনিয়ার সমস্ত মায়া ত্যাগ করে তার দেশে-বিদেশে অসংখ্য অগণিত ছাত্রছাত্রী, আত্মীয়-স্বজন গুণগ্রাহী রেখে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মওলার সান্নিধ্যে চলে গিয়েছিলেন (ইন্না….রাজিউন)।
আমি প্রথম যখন উনার মৃত্যুর খবর পাই তখন কান্না করেছিলাম।আমি শুধু একজন আদর্শ শিক্ষককে হারাইনি একজন অভিভাবক হারিয়েছি। যিনি আমাকে সার্বিক দিক দিয়ে উৎসাহিত করতেন।সুশিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হলে আদর্শ শিক্ষকের কোন বিকল্প নেই। যিনি নিজেই ফুল ফুটান এবং সৌরভ বিতরণ করেন, তাদের মধ্য থেকে ক্ষণজন্মা পুরুষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ স্যার। আজ ১২ মে ২০২১ তাঁর ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী।তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট বক্তা, তার বাগ্মিতায় আমি বারবারেই মুগ্ধ হয়েছি। ছিলেন একজন উত্তম আমলদার মানুষ। দেখা হলেই উনি নামাজের কথা বলতেন,ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার তাগিদ দিতেন। সর্বদা সত্য কথা বলতে উৎসাহিত করতেন।আমার তাঁকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি আমাকে নিজ পুত্রের মতো স্নেহ করতেন। আমার স্পষ্ট মনে আছে,
আমরা সবেমাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হই,স্যার ছিলেন আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক। উনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ প্রতিভার অধিকারী। আমরা সবাই উনাকে ভয় পেতাম।যা স্বাভাবিক ভাবেই একজন নতুন ছাত্র হিসেবে হয়ে থাকে।স্কুলে ক্লাস শুরুর আগে দৈনিক সমাবেশ হতো। প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী সমাবেশে উপস্থিত হয়েছে কিনা তা তিনি নিশ্চিত করতেন। আমাদের সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার জন্যে উৎসাহিত করতেন।পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য বলতেন।শারীরিক ফিটনেসের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিতেন। একদিন শারীরিক সমাবেশ শেষে ষষ্ঠ শ্রেণির ক্লাসে ডুকলেন।স্যার ক্লাসে প্রবেশ করলে কেউ আওয়াজ করতো না।সবাই নীরব হয়ে স্যারের কথা শুনতো।আমরা কিছুটা ভয়ে থাকতাম। কিন্তু যখনেই উনি ক্লাস শুরু করতেন আমাদের ভয় কেটে যেত।তিনি আমাদের ইংরেজি পড়াতেন।তিনি প্রতিটি পার্টকে সহজলভ্য করে তুলতেন।একজন প্রকৃত শিক্ষকের কাজ শুধু ক্লাসে পড়া দেওয়া আর তা ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা নয়। পাঠ্যপুস্তক বা পড়াটাকে উপভোগ্য করে তোলা এবং ছাত্র ছাত্রীদের পড়তে বাধ্য করা।।স্যার তাই করতেন।
আমাদের ক্লাসে পড়া বুঝিয়ে দেয়ার পাশাপাশি আমাদের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক খোঁজ খবর নিতেন।
স্যারের অবসর জীবনে যখনেই দেখা হতো তিনটি বিষয়ে ভালো করে জ্ঞান অর্জন করতে বলতেন—
You must know Law
You must know Constitutions of all countries, it’s a mirror of a country.
You must obtain islamic knowledge..
এখনও চোখে ভেসে উঠছে স্যারের কথা গুলি বলার দৃশ্যপট।
ভাটি বাংলার মানুষের শিক্ষার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে গিয়াস উদ্দিন স্যারের হাতে আমি যে ল্যাম্প দেখেছি তা অত্যন্ত তীক্ষ ও ধারালো। শিক্ষার আলোকবর্তিকা হাতে আদর্শনগর ( ছেচড়াখালী) এলাকায় তার বিচরণ ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি নেত্রকোনা তথা মোহনগঞ্জ এর বিভিন্ন উন্নয়ন কমিটির সাথে ছিলেন সরাসরি সম্পৃক্ত। তার চিন্তা ও চেতনা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সকল সময়ই উর্বরাশক্তি যুগিয়েছে।তিনি ভাটি বাংলার মানুষের জন্যে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন দেখতেন।যা আজ বাস্তবায়ন হয়েছে তারই এলাকার মানুষের হাত ধরে।।তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা মহান পুরুষ।তিনি ঘরে ঘরে লাইব্রেরি গড়ে উঠার স্বপ্ন দেখতেন।এলাকায় ছেলে মেয়েরা পড়ুয়া হবে। তাদের বইয়ের যোগান দিতে লাইব্রেরি গড়ে তোলেন।যা আজ বাস্তবায়ন হচ্ছে হাঁটি হাঁটি পা পা করে।তিনি গরীব ও মেধাবী ছাত্র- ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করতেন। এ বিদ্যাপীঠে নিয়ম শৃঙ্খলার অনুসরণ ও আদর্শ জীবন প্রণালী গঠনে তার জুড়ি নেই। অভিভাবকদের মধ্যেও তিনি সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী নন্দিত শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ স্যারের ছাত্র হতে পেরে আমি নিজেকে নিজে গর্বিত মনে করি। আমি আশাবাদী মানুষ, আমি বিশ্বাস করি স্যারের ছাত্র- ছাত্রীদের বা উত্তরসূরীদের হাত ধরে একদিন স্যারের দেখা সব স্বপ্নই বাস্তবায়ন হবে।
উনার ৬ষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকীতে আল্লাহর কাছে মিনতি করি যেন আল্লাহ তাঁর বেহেশত নসিব করেন।

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 rmcnewsbd
Theme Developed BY Desig Host BD