1. rana.bdpress@gmail.com : admin :
  2. admin@dailychandpurjamin.com : mazharul islam : mazharul islam
  3. rmctvnews@gmail.com : adminbd :
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

কালিয়াকৈর-শ্রীপুর ৪০ পরিবারের জীবন চলে লাল পিঁপড়ার ডিমে

এখানকার ৪০ পরিবারের জীবন চলে লাল পিঁপড়ার ডিমে।

পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে সংসার চালানোর খবর নতুন নয়। তবে সমতলেও যে এই জীবিকার মানুষ রয়েছেন তা হয়তো জানা হয়নি আমাদের শহর কেন্দ্রিক মানুষদের। কালিয়াকৈর-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশেই শালবন। এই বনেই লম্বা বাঁশ ও থলে হাতে অনেকেই কিছু একটা খুঁজে যাচ্ছেন। গাছে গাছে খুঁজছেন তারা জীবিকার রসদ। সোঁদা মাটিতে আর গাছের পুরনো ছালের মাঝে তারা লাল পিঁপড়ার বাসা খুঁজে খুঁজে সেই বাসা থেকে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করেন।
শালবন থেকে সাদা রঙের ডিম সংগ্রহ করা এসব মানুষেরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার জানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এখানকার প্রায় ৪০টি পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস এটি। তারা লাল পিঁপড়ার ডিম প্রতি কেজি ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। এ দিয়েই চলে তাদের সংসার।
লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহকারী একজন বলেন, সব পিঁপড়ার বাসায় ডিম পাওয়া যায় না। চাই লাল পিঁপড়ার বাসা। যেখানে মিলবে প্রচুর পরিমাণ সাদা রঙের ডিম। এই পিঁপড়ার ডিমই যে তার জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ার। সাধারণত রইনা, মেহগনি, আম, লিচুসহ দেশীয় গাছগুলোতেই লাল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়। তবে আমাদের এখানে শালবনে গাছের ডালের আগার দিকের চার-পাঁচটা পাতা মুখের লালা দিয়ে জোড়া দিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে পিঁপড়ার দল। ওই সব বাসা থেকেই ডিম পাওয়া যায়। বড় বাসা থেকে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়। এই ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজটি খুব সতর্কের সঙ্গে করতে হয়। ডিমগুলো মাছের খাবার হিসেবে বিক্রি হয়। ডিম আস্ত না রাখলে মাছ খায় না।

জানা যায়, শালবন বা বিভিন্ন দেশীয় গাছ থেকে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করা হয়। বন ও গ্রাম থেকে ডিম সংগ্রহ করে জীবন্ত ডিম বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন তারা। প্রচণ্ড গরমে পিঁপড়ার ডিম নষ্ট হয়ে যায়। তাই ডিম ছায়াযুক্ত স্থানে বাঁশের খাঁচায় টানিয়ে রাখা হয়। এক ধরনের বড় লাল পিঁপড়া বনাঞ্চলের মেহগনি, গজারি, শালসহ বিভিন্ন গাছের কিছু পাতা দিয়ে গোলাকার বাসা বানিয়ে ভেতরে অসংখ্য ডিম ছাড়ে। পিঁপড়ার ডিম ব্যবসায়ীরা বাঁশের মাথায় ডালি বেঁধে সে ডিম পেড়ে আনেন।

এই উপজেলার ফুলিবাড়িয়া ইউনিয়নের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রায় ৪০টি পরিবার লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে। সেগুলোর ক্রেতা হচ্ছে বরশি দিয়ে সৌখিন মাছ শিকারিরা। গ্রামের যারা পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে তাদের কাছ থেকে কিনে নেয়ার জন্য বেপারিও আছেন। বেপারিরা কিনে নিয়ে গাজীপুর জেলা শহরে আবার কেউ কেউ ঢাকায় নিয়েও বিক্রি করে থাকেন। পানির নির্দিষ্ট স্থানে আধার ফেলে মাছ ডেকে আনার জন্য এই ডিমের চাহিদা রয়েছে জেলেদের কাছেও। এজন্য অনেক সময় জেলেরা তাদের কাছ থেকে ডিম কিনে থাকেন।
বড়ইবাড়ি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, দুইটি গ্রামের কিছু কুচ বংশের লোকের বসবাস রয়েছে। তাদের অধিকাংশই দরিদ্র। এই কাজে কোনো পুঁজি লাগে না বললেই চলে। এজন্য তারা এটাকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসাবে বেঁছে নিয়েছেন। সারাদিনে একেকজন এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করতে পারেন। আর তাই দিয়েই ছেলে-মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার চলে।

পিঁপড়ার ডিম ব্যবসায়ী উপজেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার এক বাসিন্দা কালিপদ দাস। তিনি জানান, যখন মাছ শিকারের ধুম পড়ে যায়, তখন প্রতি কেজি পিঁপড়ার ডিম দেড় হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়। এ ডিম মাছ শিকারি ছাড়াও ঢাকা শহরের সৌখিন মাছ শিকারিরা কেনেন। হারাদন বলেন, তিনি প্রতিদিন গড়ে দুই কেজি পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করেন। তবে বর্ষাকাল চলে গেলে ডিমের চাহিদা কমে আসে।

পিঁপড়ার ডিম শিকারিরা বলেন, এক সময় পিঁপড়ার ডিম সারাদিন সংগ্রহ করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি করা যেত। এখন সারাদিন পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বিক্রি করেন। তিনি প্রায় দশ বছর ধরে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করছেন। তবে শুধু গাজীপুর কিংবা শেরপুরেই নয়। পিঁপড়ার ডিমে জীবিকা নির্বাহ করে গ্রাম বাংলার অনেক মানুষ।

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 rmcnewsbd
Theme Developed BY Desig Host BD