1. rana.bdpress@gmail.com : admin :
  2. admin@dailychandpurjamin.com : mazharul islam : mazharul islam
  3. rmctvnews@gmail.com : adminbd :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিজানুর রহমান আকন্দ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অমর ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরী ও পুষ্পস্তবক অর্পন বাকেরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন বাকেরগঞ্জের কৃতি সন্তান বশির আহমেদ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরা হলোনা কলেজ শিক্ষার্থী লাকির বান্দরবান জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ইয়াংছা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থসহ ত্রাণ সামগ্রী ভিতরণ লামার ইয়াংছা বাজারে ভয়াবহ আগুন, কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি শ্রীপুরে, মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রেফতার ভুল তথ্য প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়ে লামায় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল হোসাইন চৌধুরী’র সংবাদ সম্মেলন কুড়িগ্রামে মাদক বিরোধী জনসচেতনতা সভা ও প্রীতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

কেশবপুরে অরক্ষিত সাড়ে ৩শ বছরের পুরানো মির্জানগর হাম্মামখানা

যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কপোতাক্ষ নদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত সাড়ে ৩শ বছরের পুরানো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মির্জানগর নবাব বাড়ির হাম্মামখানা। তবে স্থানীয় বা অনেক লোকজন হাম্মামখানা বললে চেনেন না; নবাব বাড়ি বললে চিনতে পারেন। জেমস রেনেলের মানচিত্রে (১৭৮১ খ্রীস্টাব্দ) যশোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে মির্জানগরকে দেখানো হয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী দুইজন মোগল ফৌজদার মির্জা সাফসি খান এবং নুরুল্লাহ খান এখানে তাঁদের প্রশাসনিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁরাই মির্জানগরের নওয়াববাড়ি ও কিল্লা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জে. ওয়েস্টল্যান্ড সর্বপ্রথম মির্জানগরের ধ্বংসাবশেষকে ফৌজদার ও নওয়াবদের বাসভবন হিসিবে চিহ্নিত করেন। প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থপতিদের মতে, নবাববাড়ি বা হাবসিখানা নামে পরিচিত স্থাপত্য কাঠামোটি প্রকৃতপক্ষে একটি হাম্মামখানা। হাম্মাম ফার্সি শব্দ যার অর্থ ‘গোসল করার স্থান’। মধ্য এশিয়ায় হাম্মামখানা শব্দটি ব্যাপকভাবে ‘গোসলখানা’ অর্থেই ব্যবহৃত হতো।

মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে বাংলার সুবেদার শাহ সুজার শ্যালকপুত্র মীর্জা সাফসি খাঁন ১৬৪৯ খ্রিস্টাব্দে যশোরের ফৌজদার নিযুক্ত হন। তিনি কেশবপুর হতে ১০ কি.মি. পশ্চিমে কপোতাক্ষ নদের তীরে ও ত্রিমোহিনীর মীর্জানগর নামক স্থানে বসবাস করতেন। তাঁর নাম অনুসারে এলাকাটির নাম হয় মীর্জানগর। পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কেশবপুর থেকে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে দক্ষিণে এক কিলোমিটার গেলে নবাববাড়ি মোড় । এই নবাববাড়ি মোড় থেকে ২০০ গজ পশ্চিমে গেলেই মির্জানগর হাম্মামখানা। ত্রিমোহিনী বাজার থেকে ত্রিমোহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়েও যাওয়া যায়।

সম্রাট আকবরের আমলে সাফসি খান ফৌজদার নিযুক্ত হন। তিনি বুড়িভদ্রা নদীর দক্ষিণ পাড়ে কিল্লাবাড়ি স্থাপন করে সেখানে বসবাস করতেন। এটা পূর্ব-পশ্চিমে দীর্ঘ। সুবিস্তৃত পরিখা খনন করে, আট-দশ ফুট উঁচু প্রাচীর বেষ্টিত করে এটাকে মতিঝিল নামকরণ করেন, এর একাংশে বতকখানা, জোনানাসহ হাম্মামখানা (গোসলখানা) ও দুর্গের পূর্বদিকে সদর তোরণ নির্মাণ করেছিলেন। কামান দ্বারা দুর্গটি সুরক্ষিত ছিল। মীর্জানগরের কামানের একটি যশোরের মণিহার হল মোড়ে রক্ষিত আছে।

হাম্মামখানা বাদে আজ আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পূর্ব-পশ্চিম লম্বা চার কক্ষ বিশিষ্ট এবং একটি কূপ সমেত হাম্মামখানাটি মোগল স্থাপত্য শৈলীর অনুকরণে নির্মিত হয়। স্থাপনাটি চার গম্বুজ বিশিষ্ট। দুইটি গম্বুজ বড় এবং দুইটি ছোট। এর পশ্চিম দিকে পরপর দুটি কক্ষ ১৮ ফুট ৮ ইঞ্চি বাই ১৮ ফুট ও ১৮ ফুট ৮ ইঞ্চি বাই ১৭ ফুট। পূর্বদিকের কক্ষ দুটি দুইভাগে বিভক্ত। উত্তরের কক্ষ ১২ ফুট ২ ইঞ্চি বাই ১০ ফুট এবং দক্ষিণেরটি ১০ ফুট বাই সাড়ে ৬ ফুট। এই কক্ষ দুটি উঁচু চৌবাচ্চা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এর জানালাগুলো এমন উঁচু করে তৈরি যাতে এর ভিতরে অবস্থানকালে বাইরে থেকে শরীরের অংশ দেখা না যায়। পূর্বপার্শ্বে দেয়াল বেষ্টনীর ভেতর রয়েছে ৯ ফুট ব্যাসের ইটের নির্মিত সুগভীর কূপ। সে কূপ হতে পানি টেনে তুলে এর ছাদের দু’টি চৌবাচ্চায় জমা করে রৌদ্রে গরম করে দেয়াল অভ্যন্তরে গ্রথিত পোড়ামাটির নলের মাধ্যমে স্নান কক্ষে পানি সরবরাহ করা হতো। স্থাপনাটির দক্ষিণ পার্শ্বে একটি চৌবাচ্চা এবং একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে যা তোষাখানা ছিল বলে অনুমিত হয়। ১৯৯৬ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে এবং সংস্কার করে।

এখোনো দেখা যাই দেশ বিদেশ থেকে ছুটে আচ্ছে পর্যটকরা,এই সাড়ে’ তিনশো বছরের পুরোনো ঐতিহ্য হাম্মামখানাটি একনজর দেখার জন্য।
যেভাবে হাম্মামখানা দেখতে যাইবেন,
কেশবপুর বাজারের ত্রিমোহিনী মোড় থেকে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক বা ভ্যানে করে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে দক্ষিণে নবাববাড়ি মোড় হয়ে সবচেয়ে সহজে মির্জানগর হাম্মামখানায় যাওয়া যায়। মির্জানগর হাম্মামখানা দেখে যাওয়ার পথে গোপালপুর মোড় হতে খুব সুন্দর মনোমুগ্ধকর রাস্তা দিয়ে চিংড়া বাজার হয়ে সহজেই যাওয়া যায় মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি সাগরদাঁড়ি যেতে পারেন। আবার কেউ চাইলেও সাগরদাঁড়ি থেকে চিংড়া বাজার হয়ে গোপালপুর মোড়ে এসে সাতবাড়িয়া রোডে যাওয়ার পথে মির্জানগর হাম্মামখানা দেখতে পারেন।

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 rmcnewsbd
Theme Developed BY Desig Host BD