1. rana.bdpress@gmail.com : admin :
  2. admin@dailychandpurjamin.com : mazharul islam : mazharul islam
  3. rmctvnews@gmail.com : adminbd :
সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শাল্লায় শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়ায় দায়িত্বরত সেবাইতকে মহন্ত টিকা প্রদান স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম খালিয়াজুরীতে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৭ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন বর্তমান এমপি তুহিন রাঙ্গাঝিরি মোঃ ইউনুছ চৌঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস পার্টি অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ ১ আসনে চমক দেখালেন রঞ্জিত সরকার তাজরীন ট্রাজেডির ১১ বছর: নিহতদের প্রতি বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা বাঁশের ব্রীজই এখন এলাকাবাসীর ভরসা চাটখিলে সিনিয়র সাংবাদিক দিদার উল আলম-কে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সভা দুর্যোগে হাটি রক্ষা ও পারিবারিক পুষ্টি কার্যক্রম এর উপকরণ বিতরণ

মহাখালী থেকে উদ্ধার ছয় টুকরো মরদেহটির রহস্য উদঘাটন

রাজধানীর মহাখালী থেকে উদ্ধার করা ময়না মিয়ার ছয় টুকরো মরদেহটির রহস্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। ময়না মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে প্রথম স্ত্রী তাকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহটি ছয় টুকরো করে ফেলে দেন।

রোববার রাতে মহাখালীর আমতলী সড়কে মরদেহের ছয় টুকরার মধ্যে দেহ পড়ে ছিল। দুই হাত ও দুই পা পুলিশ উদ্ধার করে মহাখালীর এনা বাস কাউন্টারের সামনের সড়ক থেকে। আর মরদেহের মাথা উদ্ধার করা হয় বনানীর-১১ নম্বরের লেক থেকে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফাতেমা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিবির উত্তর বিভাগের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ।

তিনি বলেন, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আমতলী এলাকায় একটা নীল রঙের ড্রামের মধ্যে বনানী থানা পুলিশ একজন পুরুষ ব্যক্তির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে। একই রাতে ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছে একটা ব্যাগের মধ্যে উরু থেকে খণ্ডিত দুইটি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুইটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল পুলিশ।

এ বিষয়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ইউনিটের সঙ্গে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ ভিকটিমের পরিচিতি শনাক্ত করার জন্য চেষ্টা চালায়। আর ডিবির গুলশান বিভাগের একটি টিম নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হয়।

ডিবির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, নিহত ব্যক্তি বনানীর কড়াইল এলাকাতে তার প্রথম স্ত্রী ফাতেমার সঙ্গে কয়েকদিন ধরে বসবাস করছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বনানী থানার একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির কোম্পানি অফিস থেকে আসামি ফাতেমা খাতুনকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মশিউর রহমান বলেন, গ্রেফতার ফাতেমা জানান, গত ২৩ মে থেকে তার স্বামী নিহত ময়না মিয়া কড়াইল এলাকায় তার বাসাতেই অবস্থান করছিলেন। পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না মিয়ার সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করে তার স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করেন এবং পরবর্তীতে জবাই করে লাশ গুম করেন।

ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, পরিকল্পনা মোতাবেক কড়াইল এলাকা থেকে ফাতেমা দুই পাতা ঘুমের ট্যাবলেট কিনে শুক্রবার রাতে জুসের সঙ্গে স্বামীকে খাইয়ে দেন। সারারাত ও পরের সারাদিন তার স্বামী ঘুমে অচেতন থকার পর সন্ধ্যার দিকে কিছুটা সম্বিত ফিরে পেয়ে স্ত্রীকে বকাবকি করে মারধর করতে গিয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।

এ সময় ময়না মিয়া পানি পানি বলে আর্তনাদ করলে ফাতেমা ঘুমের ট্যাবলেট মেশানো জুস আবার তার মুখে ঢেলে দেন। এক পর্যায়ে ময়না মিয়া নিস্তেজ হয়ে খাটে পড়ে গেলে ফাতেমা তার ওড়না দিয়ে স্বামীর দুই হাত শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং তার মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকে দেন। এরপর তার বুকের উপরে বসে বাসায় থাকা নতুন ধারালো স্টিলের চাকু দিয়ে স্বামীর গলা কাটা শুরু করেন।

ডিবির গুলশান বিভাগের এ উপ-কমিশনার বলেন, একপর্যায়ে ফাতেমার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে ময়না মিয়া নিজের হাত মুক্ত করে ফাতেমার হাতে খামচি এবং কামড় বসিয়ে দেন। এতে ফাতেমার রাগ আরো বেড়ে যায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ময়না মিয়া ও ফাতেমা দুজনেই খাট থেকে পড়ে গেলে ফাতেমা ময়নার বুকের উপরে উঠে তার গলার বাকি অংশ কেটে ফেলেন।

এভাবে রাত অতিবাহিত হলে সকালবেলা ফাতেমা লাশ শুম করার জন্য ধারালো চাকু দিয়ে ময়না মিয়া হাতের চামড়া ও মাংস কাটেন এবং ধারালো দা দিয়ে হাড় কেটে খণ্ডিত অংশকে তিনটি ভাগে রাখেন।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, একটি লাল রঙের কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশকে একটি নীল রঙের পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন ফাতেমা।

এরপর তেরোশো টাকায় রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেন, পরবর্তীতে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত, দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে দিয়ে চলে আসেন বাসায়। সেখান থেকে খণ্ডিত মাথা রাখা ব্যাগটি নিয়ে বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দিয়ে বাসায় আসেন ফাতেমা।

গ্রেফতারের সময় ফাতেমার কাছ থেকে বোরকা, নিহতের রক্তমাখা জামাকাপড়, ধারালো ছুরি, ধারালো দা, বিষাক্ত পেয়ালা ও শীল-পাটা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 rmcnewsbd
Theme Developed BY Desig Host BD