1. rana.bdpress@gmail.com : admin :
  2. admin@dailychandpurjamin.com : mazharul islam : mazharul islam
  3. rmctvnews@gmail.com : adminbd :
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বরগুনাবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লায়ন মোঃ ফারুক রহমান নান্দাইলের মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে অসহায় ও গরীবদের জন্য দেওয়া ভিজিএফ’র চাল বিতরণে হরিলুট ভূরুঙ্গামারীতে আদম ব্যবসায়ীর জমজমাট ব্যবসা বসতবাড়ির ভিটা হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ নিখোঁজ সংবাদ নান্দাইলে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত প্রবীণ সাংবাদিক জালাল উদ্দীন মন্ডল খালিয়াজুরীতে সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসানের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদান নওগাঁয় ছেলের লাঠির আঘাতে প্রাণ গেলো বাবার নওগাঁয় নিজ বাড়ির সামনে খুন হলেন মাতব্বর নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযান ১০১ কজি গাঁজাসহ গ্রেফতার-২ ভূরুঙ্গামারীতে সিটি প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি হলেন সাংবাদিক কাজল ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রফিকুল

শাল্লায় সেই দুর্নীতিগ্রস্থ মাতাল শিক্ষক আজও বহাল ম্যানেজ ফর্মুলায়

আর.সি দাশ আশিষ
শাল্লা,(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার মাদক সম্রাট বলে খ্যাত আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র দাসের অপরাধ কর্মকান্ড আজও বন্ধ হয়নি। বন্ধ হয়নি তার মাদকময় রাজত্ত¡। এখনও মাঝে মাঝে মাতাল হয়ে বড় বড় বুলি আওড়াতে দেখা যায়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মচারী হয়ে বেশ দাপটের সঙ্গেই চালিয়ে যাচ্ছে তার দুর্নীতিময় জীবন। বিগত ২ বছর ধরে স্কুলের ম্যনেজিং কমিটি গঠন নিয়ে চলছে কত টালবাহানা। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক তার বিরুদ্ধে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দাখিল করার পরও নেওয়া হয়নি কোন কার্যকরি ভুমিকা। এ মাতাল শিক্ষক বিভিন্ন দুর্নীতি ও জঘন্য অপরাধে লিপ্ত থাকার পরও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের লোকদেখানো দায়সারা গোছের তদন্তের মাধ্যমে ও অনৈতিক লেনদেনের বিনিময়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তার যতসব অপকর্ম। এ যেনো সরষের মাঝে ভুতের ভেলকীবাজি। এমন অভিযোগ এখন গ্রামবাসীর।
সরেজমিন তদন্তে জানা যায়, আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীর্ঘ্যদিন ধরে নিয়মিত একজন মাদক সেবনকারী ব্যক্তি এবং লম্পট প্রকৃতির লোক। তিনি বিগত ৭/০১/২০১৮ খ্রি. তারিখে উপজেলার নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বদলী হয়ে তার নিজ গ্রাম আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকেই এলাকার কিছু মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে তার চলাফেরা, মাদক সেবনকারী ও জুয়া খেলায় আসক্ত লোকদের সঙ্গে তার ঘনিষ্টতা বেড়ে যায় এবং বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে যুক্ত হয়ে পড়ে। নিকটস্থ বাজারে প্রায় সময় তাকে জুয়া খেলায় বসতে দেখা যায়। ভয়ে গ্রামবাসী তাকে কিছু বলার সাহস পায়না। তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে গেলে রাস্তাঘাটে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও তাকে বিভিন্ন হুমকী ধামকী প্রদর্শন করে থাকে। এভাবেই ক্রমান্নয়ে তিনি আরও বেপোরওয়া হয়ে ওঠেন।
ঐ শিক্ষকের উপড় বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে আরও বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমান পাওয়া গেছে। ঐ শিক্ষক আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর বিভিন্ন কৌশলে তার আপন মামা পান্ডব দাসকে সভাপতি হিসেবে মনোনিত করেন। এই সুযোগে তার দুর্নীতি করার পথ আরও প্রসস্থ হয়ে যায়। বিভিন্ন দোকানের ভুয়া বিল ভাওচার দিয়ে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ¯øীপের টাকা উত্তোলন করার যথেষ্ট প্রমান পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, বিগত ২৯/৪/২০২২ তারিখে হীরক ফার্নিচার হাউজ, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও শাল্লা থেকে আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ার টেবিল মেরামতের জন্য ১৫০০ টাকা ফুট ধরে ১৫ ফুট কাঠ কেনার ভুয়া ভাওচার তৈরী করা হয়। যার মুল্য ধরা হয় ৭৫০০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যালয়ের টেবিলগুলো ঠিক করা হয়নি। জীর্ণ শীর্ণ অবস্থায় এখনও টিবিল গুলো পড়ে থাকতে দেখা যায়। ৩০/৪/২০২২ তারিখে মহাদেব স্টোর, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজার নামানুসারে একটি ভুয়া মেমো তৈরী করা হয়। মেমোতে অফিস কক্ষের ম্যাট বাবত ৫০০০/= টাকা ও বিভিন্ন উপকরণ বাবত ৫০০০/= টাকা খরচ দেখানো হয়। বাস্তবে কোন ম্যাট কেনা হয়েছে বলে প্রমান দেখাতে পারেন নি প্রধান শিক্ষক। সিলিং ফ্যান ও বাল্ব কেনা বাবত ৬৫০০ টাকার ভুয়া ভাউচার তৈরী করে ¯øীপের টাকার খরচ দেখানো হয় যা বাস্তবতার সঙ্গে কোন মিল নেই। এভাবে প্রতি বছর ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সেই প্রধান শিক্ষক। নিজের পছন্দশীল প্রার্থীকে ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করতে না পারায় বিগত ২ বছর ধরে ম্যনেজিং কমিটি ছাড়াই বিদ্যালয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম বিভিন্নভাবে বিঘœ ঘটছে।
তার বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় বিগত ২০২২ সালের অক্টোবর মাসের ২১ তারিখ বেলা অনুমান ৫ টার সময় ঐ মাতাল শিক্ষক অখিল চন্দ্র দাস আরও একটি অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার বিস্তর প্রমান পাওয় যায়। মদ খেয়ে তার নিজ গ্রামের এক মহিলার ঘরে ঢুকে তাকে একা পেয়ে ¯øীলতাহানীর চেষ্টা করে। এই মহিলা তখন চিৎকার চেছামেছি শুরু করলে প্রতিবেশি লোকজন এসে তার কবল থেকে রক্ষা করে। সেই মহিলা যখন ন্যায্য বিচার পাওয়ার আশায় নারী নির্যাতন মামলা করতে প্রস্তÍুতি নেয় তখন সেই শিক্ষক কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। এবং সেই মহিলা যেন থানায় মামলা করতে না পারে এবং ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একই গ্রামের তার ঘনিষ্ট আত্মীয় শশধর দাশকে যেকোন মুল্যে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তার নিকট আত্মীয় শশধর দাশ থানায় মামলা না করার জন্য, সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে ভিকটিম ও তার পরিবারকে অনুরোধ করেন। উপযুক্ত বিচার করে দেওয়ার আশ^াস দিয়ে ভিকটিমকে রাজি করান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিগত ২৭ অক্টোবর ২০২২ খি. তারিখে আনন্দপুর বিশাম্বর দাস এর বাড়িতে বিকাল অনুমান চারটায় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক শুরু হয়। উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একই গ্রামের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাস । তিনি লম্পট শিক্ষক অখিল চন্দ্র দাসের জঘন্য অপরাধের নিন্দা প্রকাশ করায় তার উপড় ক্ষেপে যায় সেই লম্পট শিক্ষক। এবং মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাসকে লাঞ্চিত করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকেন। এবং বিগত ১২ ই নভেম্বর ২০২২ খ্রি. তারিখ বিকাল প্রায় ৪ ঘটিকার সময় নিকটস্থ আনন্দপুর বাজারে সেই মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে একা পেয়ে লাঞ্চিত করেন। ভয়ে তিনি বাড়ির দিকে রওয়ানা হলে রাস্তায় আবারও¬¬ তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে আক্রমন করতে চাইলে প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় এ যাত্রায় তিনি বেঁচে যান। উপায়ন্তর না দেখে বীরমুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাস শাল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করেন। জিডি নং ৪৮০। পরবর্তীতে এই বীরমুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাশ শিক্ষক অখিল চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ ডিপিইও বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। এবং ডিপিইও কর্তৃক তদন্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে সং¯িøষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ দাখিল করার কারণে এই শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাসের উপর আরও ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠে। এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকী প্রদান করে। এবং তাকে আক্রমন করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। এর কিছুদিন পর ১৮ নভেম্বর ২০২২ খ্রি. রোজ শনিবার বেলা অনুমান ৫টার সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাস উপজেলার আনন্দপুর বাজারস্থ মুন্নী ফামের্সীতে ঔষধ ক্রয় করতে গেলে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ঐ মাতাল শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাসের ওপর চড়াও হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাস মুন্নী ফার্মেসী থেকে ঔষধ ক্রয় করার পর ঐ ফার্মেসীর সত্তাধিকারী ডা: রবীন্দ্র চন্দ্র সরকার ও ঐ দোকান কোঠার সত্তাধিকারী ৩নং বাহাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রামানন্দ দাশ ও ইনাথগঞ্জ বিবিয়ানা কলেজের শিক্ষক আশিষ কুমার দাসের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। হঠাৎ করে ঐ মাতাল শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাশকে দেখতে পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং তাকে নির্যাতন করার জন্য ঐ ফার্মেসীতে ঢুকে তাঁকে টানা হেঁচড়া করতে থাকে। আকষ্মিক এই ঘটনায় ফার্মেসীতে থাকা লোকজন হকবাক হয়ে পড়ে এবং আপ্রান চেষ্টার বিনিময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাসকে তার কবল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এই নক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোন উপায়ন্তর না দেখে এই দিন ১৮ই নভেম্বর ২০২২ খ্রি. তারিখে রাতেই মাতাল শিক্ষক অখিল চন্দ্র দাসকে আসামী করে শাল্লা থানায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাশ একটি মামলা দায়ের করেন । আজও বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র চন্দ্র দাস।
সিলেট বিভাগ

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 rmcnewsbd
Theme Developed BY Desig Host BD