1. rana.bdpress@gmail.com : admin :
  2. admin@dailychandpurjamin.com : mazharul islam : mazharul islam
  3. rmctvnews@gmail.com : adminbd :
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

শাল্লায় ঘটনায় দুর্বল মামলা অভিমত আইনজীবীদের

ছবিঃআর এম সি টিভি নিউজ

সুনামগঞ্জের শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের ঘটনায় গ্রহণ করা দুই মামলাকেই অতিদুর্বল এবং অপরাধী রক্ষার মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, এসব মামলায় অপরাধীর কিছুই হবে না। আর এধরণের ঘটনায় দণ্ডবিধির যেসব ধারায় মামলা গ্রহণ বা দেওয়া হয়েছে তাও অগ্রহণযোগ্য।
জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা বুধবার হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করেছে শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ বাড়িতে। এসময় গ্রামের ৫ টি মন্দির ভাংচুর করা হয়। নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে কথিত স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সকাল ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে এই তাণ্ডব চালানো হয়।
তাণ্ডবকারীরা হামলা করে ফেরার সময় নিজেরাই ফেসবুকে লাইভ দিয়ে বলে গেছে, ‘কমপক্ষে এককোটি টাকার ক্ষতি করে গেলাম। হিন্দুদের মধ্যে কম্পন তুলে গেলাম। আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে কটুক্তি করলে পরিনাম কী হবে বুঝিয়ে দিয়ে গেলাম।’
ফেসবুকের এমন লাইভ পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মীসহ অনেকের কাছেই রয়েছে।
এ ঘটনায় দেশব্যাপি তোলপার হলেও শাল্লায় থানায় গ্রহণ করা দুই মামলাকেই হাস্যকর বলছেন অনেকে।
ঘটনার পর নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল বাদী হয়ে ৫০ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ শ’ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৭৯/৩৮০/৪২৭/২৯৫/৫০৬ ও ৩৪ ধারা সংযোজন করা হয়েছে।
একইভাবে পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল করিমের দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ শ’ জনকে আসামী করা হয়েছে। এই মামলায়ও দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭/ ৪৪৮/ ৩৭৯/৩৮০/২৯৫/৪২৭ ও ৩৪ ধারা সংযোজন করা হয়েছে। মামলার তারিখ ১৮ মার্চ ২০২১ খ্রি.।
গ্রামবাসীর পক্ষে দায়ের করা মামলায় আসামী করা হয়েছে স্বাধীন মিয়া (৪০), পক্ষন মিয়া, (৩৮), ইসমত আলী (৬৫), ইনাত আলী (৫৫), মির্জা হোসেন (২৫), নহোর আলী (৪৫), ফখর আলী (৪৮), আলম উদ্দিন (৪৮), আনোয়ার হোসেন (২৭), জামাল (৪৮), লুৎফুর (৪০), আলকাছ (৩৫), জুনাই (৪৫), ভিটার (২৬), আব্দুল মজিদ ৩৫), ফারুক (৩২), আকামত (৬০), জসিম (২৮), ইলাছ মিয়া, (৩৮), সবুজ মিয়া (৩৮), মজ্জু মিয়া (৩০), কাজলু মিয়া (২৭), ইন্তাজ আলী (৪৮), মজিদ আলী (৪৫), রুকম উদ্দিন (৩০), খালেক উদ্দিন (২৭), রিয়াছত আলী (৩৬), রুমন মিয়া (২৮), নাজিম উদ্দিন (২৭), মহসিন আলী (২৫), ইয়াছিন মিয়া, (১৯), সুজন মিয়া (২৩) কবির মিয়া (৪৮), রাজন মিয়া (২২), এমান মিয়া (২২), কেরামত আলী (৬৫), তৌহাহিদ (২৮), নবাব মিয়া (৬০), সাইকুল মিয়া (৩২), ইসাদ মিয়া (৪০), সাচ্ছাদুল (৪০), উসমান আলী (৩৮), ফখরুল (৪৫), আঃ হেকিম (৪৫), রমজান মিয়া (৫০), চান মিয়া (৫০), কবির মিয়া (৫৫), আদনান (৩৫) বদল জাজি (৫০), হুমায়ুন কবির (৩৮) সহ আনুমানিক ১৪০০ থেকে ১৫০০ জনকে।
এই দুই মামলার এজাহার দেখে বিশিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, এমন একটি মর্মস্পর্শি ঘটনায় দায়ের দায়সারা গোচের মামলা কোনভাবে কাম্য নয়। ক্ষতিগ্রস্তরা তাতে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ কমে যায়।
সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ বলেন, মামলাগুলোতে যেসব ধারা সংযোজন করা হয়েছে। তাতে আসামীদের কৌশলে রক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে। ছোটখাটো ঘটনায় দণ্ডবিধির এসব ধারা যুক্ত হয়। নোয়াগাঁওয়ের ঘটনায় বেআইনী শক্তির মহড়া হয়েছে, জনমনে ভীতি সঞ্চার, সহায় সম্পদ লুটে নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাংচুর হয়েছে। এই ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইন বা দ্রুত বিচার আইনে মামলা হওয়া উচিৎ ছিল। যেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা, লুটপাট, ছিনতাই এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে কঠোর আঘাত হয়েছে। সেখানে দণ্ডবিধির এমন ধারায় মামলা নেওয়া আসামীকে রক্ষা করার চেষ্টার নামান্তর। এই ঘটনায় অন্তত দণ্ডবিধির ৩৮২ ধারা এবং ২৯৫ এ ধারা যুক্ত করা উচিৎ ছিল। তিনি বললেন, হামলাকারীরা ফেসবুকে লাইভ দিয়ে যেভাবে ভীতি সঞ্চার করেছে বা অপরাধ স্বীকার করেছে, এতে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও মামলা গ্রহণ করা যায়।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী বললেন, এসব ঘটনায় প্রথম কিছুদিন সকলেই সরব থাকেন। কিছুদিন গেলেই ক্ষতিগ্রস্তরা অসহায় হয়ে পড়েন। বিচার দ্রুত না হলে অপরাধীদের পার পাবার সুযোগ হয়। মামলায় যেসব ধারা যুক্ত হয়েছে সেগুলো খুবই দুর্বল। এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। এই ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে বা দ্রুত বিচার আইনে মামলা গ্রহণ করা যায়। ঘটনার সময় পুলিশকে কর্তব্য কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে, মামলায় দণ্ডবিধির ৩৩২/৩৩৩/৩৫৩ ধারাও যুক্ত করা যেতো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাছিরনগরে এমন ঘটনার পর রসরাজের আইনজীবী হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট মো. নাসির। শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির যেসব ধারা সংযোজন হয়েছে, দেখে তিনি বললেন, এটি কোন মামলাই হয় নি। এসব ধারায় কেউ শাস্তি পাবে না। কয়েকদিন কথা বার্তা চলবে, পরে সব শান্ত হয়ে যাবে। এই ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইন বা দ্রুত বিচার আইনেই মামলা গ্রহণ করা যায়।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এই প্রসঙ্গে বললেন, মামলায় প্রয়োজনে আরও ধারা সংযোজন করা হবে। চার্জশীটে অন্যান্য ধারা সংযুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় কাউকে কোনভাবে ছাড় দেবার কোন মানসিকতা পুলিশের নেই। ছাড় দেওয়াও হবে না।
গত সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই স্টেডিয়ামে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্য দেন। এসময় ধর্মীয় উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন মামুনুল হকসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 rmcnewsbd
Theme Developed BY Desig Host BD