1. rana.bdpress@gmail.com : admin :
  2. admin@dailychandpurjamin.com : mazharul islam : mazharul islam
  3. rmctvnews@gmail.com : adminbd :
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লামায় জীনামেজু টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এর পক্ষ থেকে একুশে পদক প্রাপ্ত ড. জিনবোধি মহাথেরকে গনসংবর্ধনা প্রদান বান্দরবানের লামায় ধর্ষণের ঘটনায় পিতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ লাখ টাকা জরিমানাবজ্জীবন পূর্ব বিরোধের জেরে স্কুল থেকে ফেরার পথে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ নেত্রকোণায় ট্রাক চাপায় নারীর মৃত্যু বই মেলায় হেপি সরকারের প্রথম কাব্যগ্রন্থ “হৃদয়ের কাব্যকথা” ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ থেকে  অবৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন ২১ফ্রেবুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একবেলা খাবারের আয়োজন মিজানুর রহমান আকন্দ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অমর ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরী ও পুষ্পস্তবক অর্পন বাকেরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে

সুনামগঞ্জে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন থামেনি

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনার পরও কৌশলে রাতের বেলায় বালু খেকোরা পাড় কেটে বালু-পাথর তোলার মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজসে, আবার কখনো চোখ এড়িয়ে লাখ লাখ ঘনফুট বালু পাথর তুলে নিয়ে যাচ্ছে কতিপয় অসাধু কিছু লোক। এদের অত্যাচারে নদীর পাড়ের বসতি-জমি নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।

নদীর দুই তীর কেটে বালু পাথর উত্তোলনের কারণে ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জেলার তাহিরপুরের যাদুকাটার পাড়ের অর্ধশত গ্রাম ও হাজার হাজার একর ফসলী জমি। এক শ্রেণির অসাধু বালুখেকো চক্র নদীর তলদেশ থেকে বালু-পাথর উত্তোলন না করে প্রতিদিনই যাদুকাটা নদীর উভয় তীরের পাড় কেটে বালু তুলছে। এ কারণে ঘাগটিয়া, বড়টেক, গড়কাটি, রাজারগাঁও, লাউড়েরগড়, বিন্নাকুলি, মাহারাম, মানিগাঁও, ঘাগড়া, পাঠানপাড়া, কুনাটছড়া, পিরিজিপুরসহ অর্ধশতাধিক গ্রাম ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে। জেলার ধোপাজান ও ছাতক দোয়ারার বালু পাথর মহালগুলোর পাড়ের গ্রামগুলোরও একই অবস্থা। তার পর ও অবৈধ বালু- পাথর উত্তোলন কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পাহাড়ী নদী ধোপাজান ও যাদুকাটার (যাদুকাটা বালু মহাল) পাড় কেটে বালু-পাথর উত্তোলন করেই চলেছে এরা। গত এক মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ বালু পাথর উত্তোলনকারীদের একাধিবার জরিমানা করেছে। আটক বালু পাথর কোটি টাকায় নিলামে বিক্রি করেছে। তবুও তান্ডব থামছে না। বালু-পাথর খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে এ কাজ চালাচ্ছে। প্রশাসনকে উপেক্ষা করে এমন অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় জব্দকৃত বালু পাথর বহনকারী ৭ বাল্কহেডকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ আল জিনাত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এই জরিমানা করেন। গত ১১ মে ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ বালু ও পাথর বোঝাইকৃত ১৫ টি বাল্কহেডকে ৬ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা অর্থ জরিমানা করা হয়।
গত ৮ মে একই নদীতে চারটি নৌযানের মালিকদের ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গত ২৪ এপ্রিল ছাতকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু, পাথর উত্তোলন করার অপরাধে ড্রেজারসহ ২ জনকে আটক করা হয়। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হাঁদাটিলা এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে বালু, পাথর উত্তোলন করার সময় তাদের আটক করে নৌ-পুলিশ।বালু-পাথর মহালের পাড়ের বাসিন্দারা জানান, দ্রুততম সময়ে বালু-পাথর তুলে নিয়ে যেতে হবে, এজন্য নদীর মাঝখান থেকে না তুলে পাড় কেটেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বালু-পাথর তুলে নিচ্ছে বালু পাথর খেকোরা।সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধোপাজান নদীতে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের কাজে যাদের নাম আলোচিত হয়। তারা হচ্ছেন- ডলুরার সিরাজ মিয়া, নূর হোসেন, মকবুল হোসেন, দেলোয়ার মিয়া, মনির হোসেন, আক্তার মিয়া, মথুরকান্দির আবু তাহের, কাপনা গ্রামের কাদির মিয়া, ডলুরার সিরাজ মিয়া, রশিদ মিয়া, মনু মিয়া, কাসেম, শাহাবুদ্দিন ও কাপনার সাদ্দাম হোসেন।
যাদুকাটার পাড়ের মানিগাঁওয়ের শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম বললেন, বেশিরভাগ শ্রমিক প্রশাসনের নির্দেশ মেনে নদীতে পাড় কাটতে যাচ্ছে না। তবে রাতে মানিগাঁওয়ের শাহ্ আলম, মোদেরগাঁওয়ের রয়েল মিয়া, পৈলনপুরের ইকবাল হোসেন, গাগরার কিরণ বাবু ও সাজ্জাদ মিয়া প্রতিদিনই পাড় কেটে লাখ লাখ টাকার বালু তুলে বিক্রি করছে।

পাহাড় কেটে বালু তোলার জন্য প্রশাসন ও পুলিশকে ম্যানেজ করার জন্য কিছু কর্মচারী ও পুলিশের কিছু লোক মধ্যস্ততা করে তাকে বলে যাদুকাটা ও ধোপাজানের পাড়ের একাধিক শ্রমিক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
ধোপাজান নদীর পাড়ের মুসলিমপুরের বাসিন্দা রাজনীতিবিদ মোবারক হোসেন বললেন, নদীর পাড়ের দরিদ্র বারকী শ্রমিকদের আইনী প্রক্রিয়ায় নদীর মাঝখান থেকে হাতে তুলে বালু পাথর বিক্রির সুযোগ দেবার বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করতে হবে। লাখো শ্রমিকের অন্য কোন পেশা নেই, এটি বিবেচনায় রাখা জরুরি। একইভাবে নদীর পাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংশকারীদের আইনের আনতে হবে। নদীতে ৭-৮ স্থানে চাঁদাবাজী হয়, সেটিও ঠেকাতে হবে।

বালু পাথর ব্যবসায়ী সাজ্জাদুর রহমান পলিন বলেন, স্তুপ করা পুরাতন বালু বিক্রয়ে বাধা দেওয়া হবে না ইতিপূর্বে বলা হয়েছিল। এখন তাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। সুরমা নদীর পাড়ের ইব্রাহিমপুর গ্রামের পেছনে ২ বছরের আগের স্তুপ করা বালু লোড দেবার সময় আমার বাল্কহেড আটক করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমরা আইনের ন্যায়সঙ্গত প্রয়োগ চাই।
সম্প্রতি, সাংবাকিদের এক প্রশ্নের জবাবে সিলেট অঞ্চল নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার শম্পা ইয়াসমীন বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে, কিছু অসাধু সাংবাদিক টাকার বিনিময়ে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনকারীদের সহযোগিতা করেন প্রতিনিয়ত। তারা অবশ্য আমাদের নৌ-পুলিশের নাম করে এই কাজটি করেন। বদনাম হয় শুধু নৌ-পুলিশের। এতে আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। আসলে নৌ-পুলিশ অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দিনেও রাতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা পৌঁছবার পূর্বেই অবৈধ বালু পাথর উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। হয়তো কোনো একটি চক্র আছে, আমাদের অভিযানের খবরটি আগে জানিয়ে দেয়।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, অবৈধ বালু পাথর উত্তোলনে এখন থেকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট হবে। যারা অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলন ও বহন করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। অবৈধ বালু পাথর খেকোদের সর্বোচ্চ আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 rmcnewsbd
Theme Developed BY Desig Host BD